
কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ কি এবং ঘরোয়া উপায়ে সমাধান.
কোষ্ঠকাঠিন্য এ রোগের কথা কম বেশি সবাই পরিচিত। কারণ আমাদের আশেপাশের অনেকেই এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এ রোগ তেমন একটি জটিল রোগ নয়। কিছু নিয়ম-কানুন এবং সাধারণ চিকিৎসা নিলে এটি দ্রুত সেরে যায়। কিন্তু এর যদি পর্যাপ্ত চিকিৎসা নেওয়া না হয় এবং অবহেলা করা হয় তাহলে এ রোগের পরিমাণটা আরো বৃদ্ধি পায়। ধীরে ধীরে এটি আরও জটিল রোগের সৃষ্টি করে এবং অনেক সমস্যা হয়। তাই এটি একদম সাধারন রোগ হিসেবে মনে করে অবহেলা করা উচিত নয়। হওয়া মাত্রই অবশ্যই এর প্রতিরোধ করা অত্যন্ত জরুরি। .
.
তবে আমাদের সর্বপ্রথম জানা উচিত কি কি কারনে কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ হয়ে থাকে সেগুলো সম্পর্কে। এ বিষয়গুলো যদি জানা থাকে তাহলে আমরা সেগুলো বর্জন করতে চেষ্টা করব। তাহলে কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। তারপর জানতে হবে যে কি কি চিকিৎসা করলে কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ দ্রুত সেরে যায় সে সকল বিষয়ের সম্পর্ক নিয়ে। যদি এসব ধারনা থাকে তাহলে অবশ্যই আমরা এই রোগ থেকে খুব দ্রুত মুক্তি পাব। তাহলে আসুন জেনে নেই কোষ্ঠকাঠিন্য রোগের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা। .
.
কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার কারণগুলো .
.
কোষ্ঠকাঠিন্যের অন্যতম কিছু লক্ষণ গুলো হচ্ছে.
পায়ুপথে ভীষণ ব্যথা অনুভূত হওয়া। দেখা যায় টয়লেট করার সময় এতটা ব্যথা অনুভূত হয় যে অনেকে ভয়ে কয়েকদিনে টয়লেট করতে যায় না। পায়খানার রাস্তায় প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত হতে থাকে। দেখা যায় অনেকে লজ্জায় কথা না বলার কারনে এর জটিলতা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে ফেলে। কিন্তু তা মোটেই করা যাবে না। জটিল হওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।.
.
ঘরোয়া উপায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার কিছু উপায়.
.
লেবু.
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার সবচেয়ে ভাল কার্যকরী উপায় হচ্ছে লেবু। একটি লেবু ভালো করে রস করে অর্ধেক গরম পানিতে মিশাতে হবে। কিছু পরিমাণ লবণ এবং মধু মিশিয়ে নিলে সবচেয়ে ভালো হয়। এরকম মিশ্রিত পানি প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এবং বিকালে খেতে হবে। তাহলে খুব দ্রুত কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। আর পদ্ধতিতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা হচ্ছে যে উক্ত উপাদানগুলো হাতের কাছে খুব সহজেই যে কোন সময় পাওয়া যায়। বাড়তি খরচের কোন ঝামেলা হয় না। .
.
মধু.
মধুর গুণগত মান সম্পর্কে সবারই ধারনা রয়েছে। অনেক রোগের মহৌষধ হিসেবে মধু কাজ করে থাকে। আর এ জন্যই সারা বিশ্বজুড়ে মধুর এত চাহিদা । কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধের জন্য একটি উপকারী উপাদান। প্রতিদিন গরম পানির সাথে এক চা চামচ মধু মিশ্রন করে যদি খাওয়া হয় তাহলে কোষ্ঠকাঠিন্য অনেকটাই কমে যায়। তবে যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তবে এক্ষেত্রে ডায়াবেটিস রোগীরা এ পদ্ধতি অবলম্বন না করাটাই সবচেয়ে ভালো। .
.
আঙ্গুর.
প্রতিদিন যদি একটি ছোট বাটির অর্ধেক করে আঙ্গুর খাওয়া হয় তাহলে কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ সারাতে টি জাদুর মত কাজ করে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি এটি জুস করে খাওয়া হয়। তবে দেখা গেছে যে এটি আমাদের দেশে জন্মায় না বলে এর দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই এ পদ্ধতি অনেকে অবলম্বন করতে পারেন না। তবে এর বিকল্প হিসাবে 2 চা চামচ কিসমিস পানিতে সারারাত ভিজিয়ে সকালে খেতে পারেন। এতে করে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দ্রুত সমাধান হয়।.
.
পালং শাক.
পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসবজি না খেলে শরীরের থেকে আসে পরিমাণ অত্যন্ত কমে যায়। শরীরের যদি আসার ঘাটতি পর্যাপ্ত পরিমাণ না থাকে তাহলে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। যদি পালং শাক খাওয়া হয় তাহলে খুব দ্রুত খাদ্যআঁশ এর পরিমাণ পূরণ হয়। তাই যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য হয় তাদেরকে দ্রুত বেশি বেশি করে পালংশাক খাওয়াতে হবে।.
.
উপরের বিষয়গুলো আমরা নিজেরা জানবো এবং আমাদের আশেপাশে অপরকে জানাবো। তাহলে আমরা সবাই সচেতন থাকবো এবং সুস্থ থাকব।.
Ajker Bogura / Hasibul Hasan
আপনার মতামত লিখুন: