
কচুর লতির গুনাগুণ ও উপকারিতা, কেন খাবেন কচুর লতি?.
আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের কচু পাওয়া যায়। পানি কচু, মুখি কচু, কচুর লতি, ওলকচু ইত্যাদি। পুষ্টি ও গুণাগুণের দিক থেকে কচু এবং কচুপাতা অনেক উপকারী।.
বিশেষজ্ঞদের মতে, কালো কচুর ডাঁটা এবং পাতায় পুষ্টির মোটামুটি সব উপাদানই থাকে। কচুতে বিভিন্ন পরিমাণে আয়রন, মিনারেল এবং সব ধরনের ভিটামিন থাকে। চলুন জেনে নেই, কচু এবং কচুর লতির কয়েকটি গুণাগুণ সম্পর্কেঃ.
আয়রন : কচুর লতিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে। এটি শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। গর্ভস্থ অবস্থা, খেলোয়াড়, বাড়ন্ত শিশু, কেমোথেরাপি পাচ্ছে- এমন রোগীদের জন্য কচুর লতি অনেক উপকারী। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে। ক্যালসিয়াম হাড় শক্ত করে ও চুলের ভঙ্গুরতা রোধ করতে সহায়তা করে।.
ফাইবার : এই সবজিতে ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশের পরিমাণ অনেক বেশি। এই আঁশ খাবার হজমে সাহায্য করে, দীর্ঘ সময়ের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, যেকোনো বড় অপারেশনের পর খাবার হজমে উপকারী পথ্য হিসেবে সাহায্য করে এটি।.
ভিটামিন সি : কচুর লতিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’রয়েছে, যা সংক্রামক রোগ থেকে আমাদের দূরে রাখে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। ভিটামিন ‘সি’ চর্মরোগের বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে ।.
কোলেস্টেরল বা চর্বি : এতে কোলেস্টেরল বা চর্বি নেই বল্লেই চলে।.
ভিটামিন বিঃ এতে কিছু পরিমাণ ভিটামিন ‘বি’ রয়েছে, যা হাত পা মাথার উপরিভাগে গরম হয়ে যাওয়া, হাত-পায়ে ঝিঁ ঝিঁ ধরা বা অবশ ভাব- এ সমস্যাগুলো দূর করে থাকে। মস্তিষ্কে সুষ্ঠুভাবে রক্ত চলাচলের জন্য অনেক জরুরী ভিটামিন ‘বি’। আর ওজন কমানোর জন্য কচুর লতি খেতে বারণ নেই।.
আয়োডিন : কচুর লতিতে আয়োডিনও রয়েছে। আয়োডিন দাঁত, হাড় ও চুল মজবুত করতে সহায়তা করা থাকে।.
কচুর লতি খাবার হজমের পর বর্জ্য দেহ থেকে সঠিকভাবে নির্গমন হতে সাহায্য করে। তাই কচুর লতি খেলে অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা খুব কম থাকে।.
ডায়াবেটিস : অনেকেই চিংড়ি মাছ দিয়ে কচুর লতি খান। চিংড়ি মাছে প্রচুর পরিমাণে কোলেস্টেরল রয়েছে। তাই যারা হৃদরোগী, ডায়াবেটিস ও উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলজনিত সমস্যায় আক্রান্ত বা উচ্চ রক্তচাপে (হাই ব্লাড প্রেশারের) ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে চিংড়ি মাছ শুঁটকি মাছ বর্জন করায় শ্রেয়.
ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, হাই ব্লাডপ্রেশার নিয়ন্ত্রণে থাকলে কচুর লতির সাথে অল্প পরিমাণে চিংড়ি মাছ খেতে পারেন । তবে মাসে এক দিন অবশ্য ছোট চিংড়ি মাছ দিয়ে খেতে পারেন। বড় চিংড়িতে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি, তাই এটা পরিহার করাই ভালো।.
কচুর লতি রক্তে চিনির মাত্রা বাড়ায় না। তাই ডায়াবেটিসের রোগীরা নিঃসন্দেহে কচুর লতি খেতে পারেন ।.
কেন খাবেন কচুর লতি?.
*গরমে আমাদের শরীর থেকে অনেক পানি বের হয়ে যায়। কচুর ডাঁটায় প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে। সে কারণে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কচুর ডাঁটা বা কচু রাখা যেতে পারে এতে আমাদের শরীরে পানির অভাব পূরণ হয়ে যাবে।.
*এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ফোলেট,ও থায়োমিন রয়েছে।.
*কচু রক্তের কোলেস্টরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।.
*ব্রেস্ট ও কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে.
*তেল দিয়ে ভালো করে কচুশাক রান্না করে শিশুদের খাওয়ানো উচিৎ। এতে রাতকানা রোগের আশঙ্কা কমে।.
*কচুতে রয়েছে অক্সলেট । তাই খাবার গ্রহণ করার পরেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে গলা কিছুটা চুলকায়। তাই কচুর তরকারি খাওয়ার সময় তরকারীর সাথে লেবুর রস মিশিয়ে নিন।.
বিঃ দ্রঃ অনেক ক্ষেত্রে কচু বা কচুর লতির তরকারী খেলে শরীরে অ্যালার্জি এবং হজমে সমস্যা দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে যাদের এ ধরনের সমস্যা রয়েছে তারা কচু বা কচু দিয়ে তরকারী গ্রহন করা থেকে বিরত থাকায় ভালো।.
Ajker Bogura / Hasibul Hasan
আপনার মতামত লিখুন: